পারা 30 · আম্মা পারা

الجزء الثلاثون

কুরআনের পারা 30 (আম্মা পারা), সূরা An-Naba 78:1 থেকে সূরা An-Nas 114:6 পর্যন্ত: সম্পূর্ণ আরবি পাঠ (উসমানি লিপি, হাফস) ও মুহিউদ্দীন খানের বাংলা অনুবাদ।

অ্যাপে পড়ুন ও শুনুন

সূরা An-Naba (1-40)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

عَمَّ يَتَسَآءَلُونَ ﴿١﴾

1তারা পরস্পরে কি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?

عَنِ ٱلنَّبَإِ ٱلْعَظِيمِ ﴿٢﴾

2মহা সংবাদ সম্পর্কে,

ٱلَّذِى هُمْ فِيهِ مُخْتَلِفُونَ ﴿٣﴾

3যে সম্পর্কে তারা মতানৈক্য করে।

كَلَّا سَيَعْلَمُونَ ﴿٤﴾

4না, সত্ত্বরই তারা জানতে পারবে,

ثُمَّ كَلَّا سَيَعْلَمُونَ ﴿٥﴾

5অতঃপর না, সত্বর তারা জানতে পারবে।

أَلَمْ نَجْعَلِ ٱلْأَرْضَ مِهَٰدًۭا ﴿٦﴾

6আমি কি করিনি ভূমিকে বিছানা

وَٱلْجِبَالَ أَوْتَادًۭا ﴿٧﴾

7এবং পর্বতমালাকে পেরেক?

وَخَلَقْنَٰكُمْ أَزْوَٰجًۭا ﴿٨﴾

8আমি তোমাদেরকে জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছি,

وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًۭا ﴿٩﴾

9তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী,

وَجَعَلْنَا ٱلَّيْلَ لِبَاسًۭا ﴿١٠﴾

10রাত্রিকে করেছি আবরণ।

وَجَعَلْنَا ٱلنَّهَارَ مَعَاشًۭا ﴿١١﴾

11দিনকে করেছি জীবিকা অর্জনের সময়,

وَبَنَيْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعًۭا شِدَادًۭا ﴿١٢﴾

12নির্মান করেছি তোমাদের মাথার উপর মজবুত সপ্ত-আকাশ।

وَجَعَلْنَا سِرَاجًۭا وَهَّاجًۭا ﴿١٣﴾

13এবং একটি উজ্জ্বল প্রদীপ সৃষ্টি করেছি।

وَأَنزَلْنَا مِنَ ٱلْمُعْصِرَٰتِ مَآءًۭ ثَجَّاجًۭا ﴿١٤﴾

14আমি জলধর মেঘমালা থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত করি,

لِّنُخْرِجَ بِهِۦ حَبًّۭا وَنَبَاتًۭا ﴿١٥﴾

15যাতে তদ্দ্বারা উৎপন্ন করি শস্য, উদ্ভিদ।

وَجَنَّٰتٍ أَلْفَافًا ﴿١٦﴾

16ও পাতাঘন উদ্যান।

إِنَّ يَوْمَ ٱلْفَصْلِ كَانَ مِيقَٰتًۭا ﴿١٧﴾

17নিশ্চয় বিচার দিবস নির্ধারিত রয়েছে।

يَوْمَ يُنفَخُ فِى ٱلصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًۭا ﴿١٨﴾

18যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন তোমরা দলে দলে সমাগত হবে।

وَفُتِحَتِ ٱلسَّمَآءُ فَكَانَتْ أَبْوَٰبًۭا ﴿١٩﴾

19আকাশ বিদীর্ণ হয়ে; তাতে বহু দরজা সৃষ্টি হবে।

وَسُيِّرَتِ ٱلْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًا ﴿٢٠﴾

20এবং পর্বতমালা চালিত হয়ে মরীচিকা হয়ে যাবে।

إِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتْ مِرْصَادًۭا ﴿٢١﴾

21নিশ্চয় জাহান্নাম প্রতীক্ষায় থাকবে,

لِّلطَّٰغِينَ مَـَٔابًۭا ﴿٢٢﴾

22সীমালংঘনকারীদের আশ্রয়স্থলরূপে।

لَّٰبِثِينَ فِيهَآ أَحْقَابًۭا ﴿٢٣﴾

23তারা তথায় শতাব্দীর পর শতাব্দী অবস্থান করবে।

لَّا يَذُوقُونَ فِيهَا بَرْدًۭا وَلَا شَرَابًا ﴿٢٤﴾

24তথায় তারা কোন শীতল এবং পানীয় আস্বাদন করবে না;

إِلَّا حَمِيمًۭا وَغَسَّاقًۭا ﴿٢٥﴾

25কিন্তু ফুটন্ত পানি ও পূঁজ পাবে।

جَزَآءًۭ وِفَاقًا ﴿٢٦﴾

26পরিপূর্ণ প্রতিফল হিসেবে।

إِنَّهُمْ كَانُوا۟ لَا يَرْجُونَ حِسَابًۭا ﴿٢٧﴾

27নিশ্চয় তারা হিসাব-নিকাশ আশা করত না।

وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا كِذَّابًۭا ﴿٢٨﴾

28এবং আমার আয়াতসমূহে পুরোপুরি মিথ্যারোপ করত।

وَكُلَّ شَىْءٍ أَحْصَيْنَٰهُ كِتَٰبًۭا ﴿٢٩﴾

29আমি সবকিছুই লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষিত করেছি।

فَذُوقُوا۟ فَلَن نَّزِيدَكُمْ إِلَّا عَذَابًا ﴿٣٠﴾

30অতএব, তোমরা আস্বাদন কর, আমি কেবল তোমাদের শাস্তিই বৃদ্ধি করব।

إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا ﴿٣١﴾

31পরহেযগারদের জন্যে রয়েছে সাফল্য।

حَدَآئِقَ وَأَعْنَٰبًۭا ﴿٣٢﴾

32উদ্যান, আঙ্গুর,

وَكَوَاعِبَ أَتْرَابًۭا ﴿٣٣﴾

33সমবয়স্কা, পূর্ণযৌবনা তরুণী।

وَكَأْسًۭا دِهَاقًۭا ﴿٣٤﴾

34এবং পূর্ণ পানপাত্র।

لَّا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًۭا وَلَا كِذَّٰبًۭا ﴿٣٥﴾

35তারা তথায় অসার ও মিথ্যা বাক্য শুনবে না।

جَزَآءًۭ مِّن رَّبِّكَ عَطَآءً حِسَابًۭا ﴿٣٦﴾

36এটা আপনার পালনকর্তার তরফ থেকে যথোচিত দান,

رَّبِّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ٱلرَّحْمَٰنِ ۖ لَا يَمْلِكُونَ مِنْهُ خِطَابًۭا ﴿٣٧﴾

37যিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা, দয়াময়, কেউ তাঁর সাথে কথার অধিকারী হবে না।

يَوْمَ يَقُومُ ٱلرُّوحُ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةُ صَفًّۭا ۖ لَّا يَتَكَلَّمُونَ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ ٱلرَّحْمَٰنُ وَقَالَ صَوَابًۭا ﴿٣٨﴾

38যেদিন রূহ ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দিবেন, সে ব্যতিত কেউ কথা বলতে পারবে না এবং সে সত্যকথা বলবে।

ذَٰلِكَ ٱلْيَوْمُ ٱلْحَقُّ ۖ فَمَن شَآءَ ٱتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ مَـَٔابًا ﴿٣٩﴾

39এই দিবস সত্য। অতঃপর যার ইচ্ছা, সে তার পালনকর্তার কাছে ঠিকানা তৈরী করুক।

إِنَّآ أَنذَرْنَٰكُمْ عَذَابًۭا قَرِيبًۭا يَوْمَ يَنظُرُ ٱلْمَرْءُ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ وَيَقُولُ ٱلْكَافِرُ يَٰلَيْتَنِى كُنتُ تُرَٰبًۢا ﴿٤٠﴾

40আমি তোমাদেরকে আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলাম, যেদিন মানুষ প্রত্যেক্ষ করবে যা সে সামনে প্রেরণ করেছে এবং কাফের বলবেঃ হায়, আফসোস-আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম।

সূরা An-Nazi'at (1-46)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

وَٱلنَّٰزِعَٰتِ غَرْقًۭا ﴿١﴾

1শপথ সেই ফেরেশতাগণের, যারা ডুব দিয়ে আত্মা উৎপাটন করে,

وَٱلنَّٰشِطَٰتِ نَشْطًۭا ﴿٢﴾

2শপথ তাদের, যারা আত্মার বাঁধন খুলে দেয় মৃদুভাবে;

وَٱلسَّٰبِحَٰتِ سَبْحًۭا ﴿٣﴾

3শপথ তাদের, যারা সন্তরণ করে দ্রুতগতিতে,

فَٱلسَّٰبِقَٰتِ سَبْقًۭا ﴿٤﴾

4শপথ তাদের, যারা দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয় এবং

فَٱلْمُدَبِّرَٰتِ أَمْرًۭا ﴿٥﴾

5শপথ তাদের, যারা সকল কর্মনির্বাহ করে, কেয়ামত অবশ্যই হবে।

يَوْمَ تَرْجُفُ ٱلرَّاجِفَةُ ﴿٦﴾

6যেদিন প্রকম্পিত করবে প্রকম্পিতকারী,

تَتْبَعُهَا ٱلرَّادِفَةُ ﴿٧﴾

7অতঃপর পশ্চাতে আসবে পশ্চাদগামী;

قُلُوبٌۭ يَوْمَئِذٍۢ وَاجِفَةٌ ﴿٨﴾

8সেদিন অনেক হৃদয় ভীত-বিহবল হবে।

أَبْصَٰرُهَا خَٰشِعَةٌۭ ﴿٩﴾

9তাদের দৃষ্টি নত হবে।

يَقُولُونَ أَءِنَّا لَمَرْدُودُونَ فِى ٱلْحَافِرَةِ ﴿١٠﴾

10তারা বলেঃ আমরা কি উলটো পায়ে প্রত্যাবর্তিত হবই-

أَءِذَا كُنَّا عِظَٰمًۭا نَّخِرَةًۭ ﴿١١﴾

11গলিত অস্থি হয়ে যাওয়ার পরও?

قَالُوا۟ تِلْكَ إِذًۭا كَرَّةٌ خَاسِرَةٌۭ ﴿١٢﴾

12তবে তো এ প্রত্যাবর্তন সর্বনাশা হবে!

فَإِنَّمَا هِىَ زَجْرَةٌۭ وَٰحِدَةٌۭ ﴿١٣﴾

13অতএব, এটা তো কেবল এক মহা-নাদ,

فَإِذَا هُم بِٱلسَّاهِرَةِ ﴿١٤﴾

14তখনই তারা ময়দানে আবির্ভূত হবে।

هَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ مُوسَىٰٓ ﴿١٥﴾

15মূসার বৃত্তান্ত আপনার কাছে পৌছেছে কি?

إِذْ نَادَىٰهُ رَبُّهُۥ بِٱلْوَادِ ٱلْمُقَدَّسِ طُوًى ﴿١٦﴾

16যখন তার পালনকর্তা তাকে পবিত্র তুয়া উপ্যকায় আহবান করেছিলেন,

ٱذْهَبْ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ إِنَّهُۥ طَغَىٰ ﴿١٧﴾

17ফেরাউনের কাছে যাও, নিশ্চয় সে সীমালংঘন করেছে।

فَقُلْ هَل لَّكَ إِلَىٰٓ أَن تَزَكَّىٰ ﴿١٨﴾

18অতঃপর বলঃ তোমার পবিত্র হওয়ার আগ্রহ আছে কি?

وَأَهْدِيَكَ إِلَىٰ رَبِّكَ فَتَخْشَىٰ ﴿١٩﴾

19আমি তোমাকে তোমার পালনকর্তার দিকে পথ দেখাব, যাতে তুমি তাকে ভয় কর।

فَأَرَىٰهُ ٱلْءَايَةَ ٱلْكُبْرَىٰ ﴿٢٠﴾

20অতঃপর সে তাকে মহা-নিদর্শন দেখাল।

فَكَذَّبَ وَعَصَىٰ ﴿٢١﴾

21কিন্তু সে মিথ্যারোপ করল এবং অমান্য করল।

ثُمَّ أَدْبَرَ يَسْعَىٰ ﴿٢٢﴾

22অতঃপর সে প্রতিকার চেষ্টায় প্রস্থান করল।

فَحَشَرَ فَنَادَىٰ ﴿٢٣﴾

23সে সকলকে সমবেত করল এবং সজোরে আহবান করল,

فَقَالَ أَنَا۠ رَبُّكُمُ ٱلْأَعْلَىٰ ﴿٢٤﴾

24এবং বললঃ আমিই তোমাদের সেরা পালনকর্তা।

فَأَخَذَهُ ٱللَّهُ نَكَالَ ٱلْءَاخِرَةِ وَٱلْأُولَىٰٓ ﴿٢٥﴾

25অতঃপর আল্লাহ তাকে পরকালের ও ইহকালের শাস্তি দিলেন।

إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَعِبْرَةًۭ لِّمَن يَخْشَىٰٓ ﴿٢٦﴾

26যে ভয় করে তার জন্যে অবশ্যই এতে শিক্ষা রয়েছে।

ءَأَنتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ ٱلسَّمَآءُ ۚ بَنَىٰهَا ﴿٢٧﴾

27তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন না আকাশের, যা তিনি নির্মাণ করেছেন?

رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّىٰهَا ﴿٢٨﴾

28তিনি একে উচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন।

وَأَغْطَشَ لَيْلَهَا وَأَخْرَجَ ضُحَىٰهَا ﴿٢٩﴾

29তিনি এর রাত্রিকে করেছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং এর সূর্যোলোক প্রকাশ করেছেন।

وَٱلْأَرْضَ بَعْدَ ذَٰلِكَ دَحَىٰهَآ ﴿٣٠﴾

30পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন।

أَخْرَجَ مِنْهَا مَآءَهَا وَمَرْعَىٰهَا ﴿٣١﴾

31তিনি এর মধ্য থেকে এর পানি ও ঘাম নির্গত করেছেন,

وَٱلْجِبَالَ أَرْسَىٰهَا ﴿٣٢﴾

32পর্বতকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন,

مَتَٰعًۭا لَّكُمْ وَلِأَنْعَٰمِكُمْ ﴿٣٣﴾

33তোমাদের ও তোমাদের চতুস্পদ জন্তুদের উপকারার্থে।

فَإِذَا جَآءَتِ ٱلطَّآمَّةُ ٱلْكُبْرَىٰ ﴿٣٤﴾

34অতঃপর যখন মহাসংকট এসে যাবে।

يَوْمَ يَتَذَكَّرُ ٱلْإِنسَٰنُ مَا سَعَىٰ ﴿٣٥﴾

35অর্থাৎ যেদিন মানুষ তার কৃতকর্ম স্মরণ করবে

وَبُرِّزَتِ ٱلْجَحِيمُ لِمَن يَرَىٰ ﴿٣٦﴾

36এবং দর্শকদের জন্যে জাহান্নাম প্রকাশ করা হবে,

فَأَمَّا مَن طَغَىٰ ﴿٣٧﴾

37তখন যে ব্যক্তি সীমালংঘন করেছে;

وَءَاثَرَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا ﴿٣٨﴾

38এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে,

فَإِنَّ ٱلْجَحِيمَ هِىَ ٱلْمَأْوَىٰ ﴿٣٩﴾

39তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।

وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِۦ وَنَهَى ٱلنَّفْسَ عَنِ ٱلْهَوَىٰ ﴿٤٠﴾

40পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল-খুশী থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে,

فَإِنَّ ٱلْجَنَّةَ هِىَ ٱلْمَأْوَىٰ ﴿٤١﴾

41তার ঠিকানা হবে জান্নাত।

يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلسَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَىٰهَا ﴿٤٢﴾

42তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, কেয়ামত কখন হবে?

فِيمَ أَنتَ مِن ذِكْرَىٰهَآ ﴿٤٣﴾

43এর বর্ণনার সাথে আপনার কি সম্পর্ক ?

إِلَىٰ رَبِّكَ مُنتَهَىٰهَآ ﴿٤٤﴾

44এর চরম জ্ঞান আপনার পালনকর্তার কাছে।

إِنَّمَآ أَنتَ مُنذِرُ مَن يَخْشَىٰهَا ﴿٤٥﴾

45যে একে ভয় করে, আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন।

كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوٓا۟ إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَىٰهَا ﴿٤٦﴾

46যেদিন তারা একে দেখবে, সেদিন মনে হবে যেন তারা দুনিয়াতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক সকাল অবস্থান করেছে।

সূরা 'Abasa (1-42)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

عَبَسَ وَتَوَلَّىٰٓ ﴿١﴾

1তিনি ভ্রূকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন।

أَن جَآءَهُ ٱلْأَعْمَىٰ ﴿٢﴾

2কারণ, তাঁর কাছে এক অন্ধ আগমন করল।

وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُۥ يَزَّكَّىٰٓ ﴿٣﴾

3আপনি কি জানেন, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হত,

أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنفَعَهُ ٱلذِّكْرَىٰٓ ﴿٤﴾

4অথবা উপদেশ গ্রহণ করতো এবং উপদেশ তার উপকার হত।

أَمَّا مَنِ ٱسْتَغْنَىٰ ﴿٥﴾

5পরন্তু যে বেপরোয়া,

فَأَنتَ لَهُۥ تَصَدَّىٰ ﴿٦﴾

6আপনি তার চিন্তায় মশগুল।

وَمَا عَلَيْكَ أَلَّا يَزَّكَّىٰ ﴿٧﴾

7সে শুদ্ধ না হলে আপনার কোন দোষ নেই।

وَأَمَّا مَن جَآءَكَ يَسْعَىٰ ﴿٨﴾

8যে আপনার কাছে দৌড়ে আসলো

وَهُوَ يَخْشَىٰ ﴿٩﴾

9এমতাবস্থায় যে, সে ভয় করে,

فَأَنتَ عَنْهُ تَلَهَّىٰ ﴿١٠﴾

10আপনি তাকে অবজ্ঞা করলেন।

كَلَّآ إِنَّهَا تَذْكِرَةٌۭ ﴿١١﴾

11কখনও এরূপ করবেন না, এটা উপদেশবানী।

فَمَن شَآءَ ذَكَرَهُۥ ﴿١٢﴾

12অতএব, যে ইচ্ছা করবে, সে একে গ্রহণ করবে।

فِى صُحُفٍۢ مُّكَرَّمَةٍۢ ﴿١٣﴾

13এটা লিখিত আছে সম্মানিত,

مَّرْفُوعَةٍۢ مُّطَهَّرَةٍۭ ﴿١٤﴾

14উচ্চ পবিত্র পত্রসমূহে,

بِأَيْدِى سَفَرَةٍۢ ﴿١٥﴾

15লিপিকারের হস্তে,

كِرَامٍۭ بَرَرَةٍۢ ﴿١٦﴾

16যারা মহৎ, পূত চরিত্র।

قُتِلَ ٱلْإِنسَٰنُ مَآ أَكْفَرَهُۥ ﴿١٧﴾

17মানুষ ধ্বংস হোক, সে কত অকৃতজ্ঞ!

مِنْ أَىِّ شَىْءٍ خَلَقَهُۥ ﴿١٨﴾

18তিনি তাকে কি বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন?

مِن نُّطْفَةٍ خَلَقَهُۥ فَقَدَّرَهُۥ ﴿١٩﴾

19শুক্র থেকে তাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে সুপরিমিত করেছেন।

ثُمَّ ٱلسَّبِيلَ يَسَّرَهُۥ ﴿٢٠﴾

20অতঃপর তার পথ সহজ করেছেন,

ثُمَّ أَمَاتَهُۥ فَأَقْبَرَهُۥ ﴿٢١﴾

21অতঃপর তার মৃত্যু ঘটান ও কবরস্থ করেন তাকে।

ثُمَّ إِذَا شَآءَ أَنشَرَهُۥ ﴿٢٢﴾

22এরপর যখন ইচ্ছা করবেন তখন তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন।

كَلَّا لَمَّا يَقْضِ مَآ أَمَرَهُۥ ﴿٢٣﴾

23সে কখনও কৃতজ্ঞ হয়নি, তিনি তাকে যা আদেশ করেছেন, সে তা পূর্ণ করেনি।

فَلْيَنظُرِ ٱلْإِنسَٰنُ إِلَىٰ طَعَامِهِۦٓ ﴿٢٤﴾

24মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক,

أَنَّا صَبَبْنَا ٱلْمَآءَ صَبًّۭا ﴿٢٥﴾

25আমি আশ্চর্য উপায়ে পানি বর্ষণ করেছি,

ثُمَّ شَقَقْنَا ٱلْأَرْضَ شَقًّۭا ﴿٢٦﴾

26এরপর আমি ভূমিকে বিদীর্ণ করেছি,

فَأَنۢبَتْنَا فِيهَا حَبًّۭا ﴿٢٧﴾

27অতঃপর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য,

وَعِنَبًۭا وَقَضْبًۭا ﴿٢٨﴾

28আঙ্গুর, শাক-সব্জি,

وَزَيْتُونًۭا وَنَخْلًۭا ﴿٢٩﴾

29যয়তুন, খর্জূর,

وَحَدَآئِقَ غُلْبًۭا ﴿٣٠﴾

30ঘন উদ্যান,

وَفَٰكِهَةًۭ وَأَبًّۭا ﴿٣١﴾

31ফল এবং ঘাস

مَّتَٰعًۭا لَّكُمْ وَلِأَنْعَٰمِكُمْ ﴿٣٢﴾

32তোমাদেরও তোমাদের চতুস্পদ জন্তুদের উপাকারার্থে।

فَإِذَا جَآءَتِ ٱلصَّآخَّةُ ﴿٣٣﴾

33অতঃপর যেদিন কর্ণবিদারক নাদ আসবে,

يَوْمَ يَفِرُّ ٱلْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ ﴿٣٤﴾

34সেদিন পলায়ন করবে মানুষ তার ভ্রাতার কাছ থেকে,

وَأُمِّهِۦ وَأَبِيهِ ﴿٣٥﴾

35তার মাতা, তার পিতা,

وَصَٰحِبَتِهِۦ وَبَنِيهِ ﴿٣٦﴾

36তার পত্নী ও তার সন্তানদের কাছ থেকে।

لِكُلِّ ٱمْرِئٍۢ مِّنْهُمْ يَوْمَئِذٍۢ شَأْنٌۭ يُغْنِيهِ ﴿٣٧﴾

37সেদিন প্রত্যেকেরই নিজের এক চিন্তা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে।

وُجُوهٌۭ يَوْمَئِذٍۢ مُّسْفِرَةٌۭ ﴿٣٨﴾

38অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে উজ্জ্বল,

ضَاحِكَةٌۭ مُّسْتَبْشِرَةٌۭ ﴿٣٩﴾

39সহাস্য ও প্রফুল্ল।

وَوُجُوهٌۭ يَوْمَئِذٍ عَلَيْهَا غَبَرَةٌۭ ﴿٤٠﴾

40এবং অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে ধুলি ধূসরিত।

تَرْهَقُهَا قَتَرَةٌ ﴿٤١﴾

41তাদেরকে কালিমা আচ্ছন্ন করে রাখবে।

أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْكَفَرَةُ ٱلْفَجَرَةُ ﴿٤٢﴾

42তারাই কাফের পাপিষ্ঠের দল।

সূরা At-Takwir (1-29)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

إِذَا ٱلشَّمْسُ كُوِّرَتْ ﴿١﴾

1যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে,

وَإِذَا ٱلنُّجُومُ ٱنكَدَرَتْ ﴿٢﴾

2যখন নক্ষত্র মলিন হয়ে যাবে,

وَإِذَا ٱلْجِبَالُ سُيِّرَتْ ﴿٣﴾

3যখন পর্বতমালা অপসারিত হবে,

وَإِذَا ٱلْعِشَارُ عُطِّلَتْ ﴿٤﴾

4যখন দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রীসমূহ উপেক্ষিত হবে;

وَإِذَا ٱلْوُحُوشُ حُشِرَتْ ﴿٥﴾

5যখন বন্য পশুরা একত্রিত হয়ে যাবে,

وَإِذَا ٱلْبِحَارُ سُجِّرَتْ ﴿٦﴾

6যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে,

وَإِذَا ٱلنُّفُوسُ زُوِّجَتْ ﴿٧﴾

7যখন আত্মাসমূহকে যুগল করা হবে,

وَإِذَا ٱلْمَوْءُۥدَةُ سُئِلَتْ ﴿٨﴾

8যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে,

بِأَىِّ ذَنۢبٍۢ قُتِلَتْ ﴿٩﴾

9কি অপরাধে তাকে হত্য করা হল?

وَإِذَا ٱلصُّحُفُ نُشِرَتْ ﴿١٠﴾

10যখন আমলনামা খোলা হবে,

وَإِذَا ٱلسَّمَآءُ كُشِطَتْ ﴿١١﴾

11যখন আকাশের আবরণ অপসারিত হবে,

وَإِذَا ٱلْجَحِيمُ سُعِّرَتْ ﴿١٢﴾

12যখন জাহান্নামের অগ্নি প্রজ্বলিত করা হবে

وَإِذَا ٱلْجَنَّةُ أُزْلِفَتْ ﴿١٣﴾

13এবং যখন জান্নাত সন্নিকটবর্তী হবে,

عَلِمَتْ نَفْسٌۭ مَّآ أَحْضَرَتْ ﴿١٤﴾

14তখন প্রত্যেকেই জেনে নিবে সে কি উপস্থিত করেছে।

فَلَآ أُقْسِمُ بِٱلْخُنَّسِ ﴿١٥﴾

15আমি শপথ করি যেসব নক্ষত্রগুলো পশ্চাতে সরে যায়।

ٱلْجَوَارِ ٱلْكُنَّسِ ﴿١٦﴾

16চলমান হয় ও অদৃশ্য হয়,

وَٱلَّيْلِ إِذَا عَسْعَسَ ﴿١٧﴾

17শপথ নিশাবসান ও

وَٱلصُّبْحِ إِذَا تَنَفَّسَ ﴿١٨﴾

18প্রভাত আগমন কালের,

إِنَّهُۥ لَقَوْلُ رَسُولٍۢ كَرِيمٍۢ ﴿١٩﴾

19নিশ্চয় কোরআন সম্মানিত রসূলের আনীত বাণী,

ذِى قُوَّةٍ عِندَ ذِى ٱلْعَرْشِ مَكِينٍۢ ﴿٢٠﴾

20যিনি শক্তিশালী, আরশের মালিকের নিকট মর্যাদাশালী,

مُّطَاعٍۢ ثَمَّ أَمِينٍۢ ﴿٢١﴾

21সবার মান্যবর, সেখানকার বিশ্বাসভাজন।

وَمَا صَاحِبُكُم بِمَجْنُونٍۢ ﴿٢٢﴾

22এবং তোমাদের সাথী পাগল নন।

وَلَقَدْ رَءَاهُ بِٱلْأُفُقِ ٱلْمُبِينِ ﴿٢٣﴾

23তিনি সেই ফেরেশতাকে প্রকাশ্য দিগন্তে দেখেছেন।

وَمَا هُوَ عَلَى ٱلْغَيْبِ بِضَنِينٍۢ ﴿٢٤﴾

24তিনি অদৃশ্য বিষয় বলতে কৃপনতা করেন না।

وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَيْطَٰنٍۢ رَّجِيمٍۢ ﴿٢٥﴾

25এটা বিতাড়িত শয়তানের উক্তি নয়।

فَأَيْنَ تَذْهَبُونَ ﴿٢٦﴾

26অতএব, তোমরা কোথায় যাচ্ছ?

إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌۭ لِّلْعَٰلَمِينَ ﴿٢٧﴾

27এটা তো কেবল বিশ্বাবাসীদের জন্যে উপদেশ,

لِمَن شَآءَ مِنكُمْ أَن يَسْتَقِيمَ ﴿٢٨﴾

28তার জন্যে, যে তোমাদের মধ্যে সোজা চলতে চায়।

وَمَا تَشَآءُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلْعَٰلَمِينَ ﴿٢٩﴾

29তোমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অভিপ্রায়ের বাইরে অন্য কিছুই ইচ্ছা করতে পার না।

সূরা Al-Infitar (1-19)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

إِذَا ٱلسَّمَآءُ ٱنفَطَرَتْ ﴿١﴾

1যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে,

وَإِذَا ٱلْكَوَاكِبُ ٱنتَثَرَتْ ﴿٢﴾

2যখন নক্ষত্রসমূহ ঝরে পড়বে,

وَإِذَا ٱلْبِحَارُ فُجِّرَتْ ﴿٣﴾

3যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে,

وَإِذَا ٱلْقُبُورُ بُعْثِرَتْ ﴿٤﴾

4এবং যখন কবরসমূহ উম্মোচিত হবে,

عَلِمَتْ نَفْسٌۭ مَّا قَدَّمَتْ وَأَخَّرَتْ ﴿٥﴾

5তখন প্রত্যেকে জেনে নিবে সে কি অগ্রে প্রেরণ করেছে এবং কি পশ্চাতে ছেড়ে এসেছে।

يَٰٓأَيُّهَا ٱلْإِنسَٰنُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ ٱلْكَرِيمِ ﴿٦﴾

6হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহামহিম পালনকর্তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল?

ٱلَّذِى خَلَقَكَ فَسَوَّىٰكَ فَعَدَلَكَ ﴿٧﴾

7যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুবিন্যস্ত করেছেন এবং সুষম করেছেন।

فِىٓ أَىِّ صُورَةٍۢ مَّا شَآءَ رَكَّبَكَ ﴿٨﴾

8যিনি তোমাকে তাঁর ইচ্ছামত আকৃতিতে গঠন করেছেন।

كَلَّا بَلْ تُكَذِّبُونَ بِٱلدِّينِ ﴿٩﴾

9কখনও বিভ্রান্ত হয়ো না; বরং তোমরা দান-প্রতিদানকে মিথ্যা মনে কর।

وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَٰفِظِينَ ﴿١٠﴾

10অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে।

كِرَامًۭا كَٰتِبِينَ ﴿١١﴾

11সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ।

يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ ﴿١٢﴾

12তারা জানে যা তোমরা কর।

إِنَّ ٱلْأَبْرَارَ لَفِى نَعِيمٍۢ ﴿١٣﴾

13সৎকর্মশীলগণ থাকবে জান্নাতে।

وَإِنَّ ٱلْفُجَّارَ لَفِى جَحِيمٍۢ ﴿١٤﴾

14এবং দুষ্কর্মীরা থাকবে জাহান্নামে;

يَصْلَوْنَهَا يَوْمَ ٱلدِّينِ ﴿١٥﴾

15তারা বিচার দিবসে তথায় প্রবেশ করবে।

وَمَا هُمْ عَنْهَا بِغَآئِبِينَ ﴿١٦﴾

16তারা সেখান থেকে পৃথক হবে না।

وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا يَوْمُ ٱلدِّينِ ﴿١٧﴾

17আপনি জানেন, বিচার দিবস কি?

ثُمَّ مَآ أَدْرَىٰكَ مَا يَوْمُ ٱلدِّينِ ﴿١٨﴾

18অতঃপর আপনি জানেন, বিচার দিবস কি?

يَوْمَ لَا تَمْلِكُ نَفْسٌۭ لِّنَفْسٍۢ شَيْـًۭٔا ۖ وَٱلْأَمْرُ يَوْمَئِذٍۢ لِّلَّهِ ﴿١٩﴾

19যেদিন কেউ কারও কোন উপকার করতে পারবে না এবং সেদিন সব কতৃꦣ2468;্ব হবে আল্লাহর।

সূরা Al-Mutaffifin (1-36)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

وَيْلٌۭ لِّلْمُطَفِّفِينَ ﴿١﴾

1যারা মাপে কম করে, তাদের জন্যে দুর্ভোগ,

ٱلَّذِينَ إِذَا ٱكْتَالُوا۟ عَلَى ٱلنَّاسِ يَسْتَوْفُونَ ﴿٢﴾

2যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয়, তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয়

وَإِذَا كَالُوهُمْ أَو وَّزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ ﴿٣﴾

3এবং যখন লোকদেরকে মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয়, তখন কম করে দেয়।

أَلَا يَظُنُّ أُو۟لَٰٓئِكَ أَنَّهُم مَّبْعُوثُونَ ﴿٤﴾

4তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে।

لِيَوْمٍ عَظِيمٍۢ ﴿٥﴾

5সেই মহাদিবসে,

يَوْمَ يَقُومُ ٱلنَّاسُ لِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ ﴿٦﴾

6যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে।

كَلَّآ إِنَّ كِتَٰبَ ٱلْفُجَّارِ لَفِى سِجِّينٍۢ ﴿٧﴾

7এটা কিছুতেই উচিত নয়, নিশ্চয় পাপাচারীদের আমলনামা সিজ্জীনে আছে।

وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا سِجِّينٌۭ ﴿٨﴾

8আপনি জানেন, সিজ্জীন কি?

كِتَٰبٌۭ مَّرْقُومٌۭ ﴿٩﴾

9এটা লিপিবদ্ধ খাতা।

وَيْلٌۭ يَوْمَئِذٍۢ لِّلْمُكَذِّبِينَ ﴿١٠﴾

10সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের,

ٱلَّذِينَ يُكَذِّبُونَ بِيَوْمِ ٱلدِّينِ ﴿١١﴾

11যারা প্রতিফল দিবসকে মিথ্যারোপ করে।

وَمَا يُكَذِّبُ بِهِۦٓ إِلَّا كُلُّ مُعْتَدٍ أَثِيمٍ ﴿١٢﴾

12প্রত্যেক সীমালংঘনকারী পাপিষ্ঠই কেবল একে মিথ্যারোপ করে।

إِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِ ءَايَٰتُنَا قَالَ أَسَٰطِيرُ ٱلْأَوَّلِينَ ﴿١٣﴾

13তার কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হলে সে বলে, পুরাকালের উপকথা।

كَلَّا ۖ بَلْ ۜ رَانَ عَلَىٰ قُلُوبِهِم مَّا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ ﴿١٤﴾

14কখনও না, বরং তারা যা করে, তাই তাদের হৃদয় মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।

كَلَّآ إِنَّهُمْ عَن رَّبِّهِمْ يَوْمَئِذٍۢ لَّمَحْجُوبُونَ ﴿١٥﴾

15কখনও না, তারা সেদিন তাদের পালনকর্তার থেকে পর্দার অন্তরালে থাকবে।

ثُمَّ إِنَّهُمْ لَصَالُوا۟ ٱلْجَحِيمِ ﴿١٦﴾

16অতঃপর তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

ثُمَّ يُقَالُ هَٰذَا ٱلَّذِى كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ ﴿١٧﴾

17এরপর বলা হবে, একেই তো তোমরা মিথ্যারোপ করতে।

كَلَّآ إِنَّ كِتَٰبَ ٱلْأَبْرَارِ لَفِى عِلِّيِّينَ ﴿١٨﴾

18কখনও না, নিশ্চয় সৎলোকদের আমলনামা আছে ইল্লিয়্যীনে।

وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا عِلِّيُّونَ ﴿١٩﴾

19আপনি জানেন ইল্লিয়্যীন কি?

كِتَٰبٌۭ مَّرْقُومٌۭ ﴿٢٠﴾

20এটা লিপিবদ্ধ খাতা।

يَشْهَدُهُ ٱلْمُقَرَّبُونَ ﴿٢١﴾

21আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ একে প্রত্যক্ষ করে।

إِنَّ ٱلْأَبْرَارَ لَفِى نَعِيمٍ ﴿٢٢﴾

22নিশ্চয় সৎলোকগণ থাকবে পরম আরামে,

عَلَى ٱلْأَرَآئِكِ يَنظُرُونَ ﴿٢٣﴾

23সিংহাসনে বসে অবলোকন করবে।

تَعْرِفُ فِى وُجُوهِهِمْ نَضْرَةَ ٱلنَّعِيمِ ﴿٢٤﴾

24আপনি তাদের মুখমন্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের সজীবতা দেখতে পাবেন।

يُسْقَوْنَ مِن رَّحِيقٍۢ مَّخْتُومٍ ﴿٢٥﴾

25তাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় পান করানো হবে।

خِتَٰمُهُۥ مِسْكٌۭ ۚ وَفِى ذَٰلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ ٱلْمُتَنَٰفِسُونَ ﴿٢٦﴾

26তার মোহর হবে কস্তুরী। এ বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত।

وَمِزَاجُهُۥ مِن تَسْنِيمٍ ﴿٢٧﴾

27তার মিশ্রণ হবে তসনীমের পানি।

عَيْنًۭا يَشْرَبُ بِهَا ٱلْمُقَرَّبُونَ ﴿٢٨﴾

28এটা একটা ঝরণা, যার পানি পান করবে নৈকট্যশীলগণ।

إِنَّ ٱلَّذِينَ أَجْرَمُوا۟ كَانُوا۟ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يَضْحَكُونَ ﴿٢٩﴾

29যারা অপরাধী, তারা বিশ্বাসীদেরকে উপহাস করত।

وَإِذَا مَرُّوا۟ بِهِمْ يَتَغَامَزُونَ ﴿٣٠﴾

30এবং তারা যখন তাদের কাছ দিয়ে গমন করত তখন পরস্পরে চোখ টিপে ইশারা করত।

وَإِذَا ٱنقَلَبُوٓا۟ إِلَىٰٓ أَهْلِهِمُ ٱنقَلَبُوا۟ فَكِهِينَ ﴿٣١﴾

31তারা যখন তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরত, তখনও হাসাহাসি করে ফিরত।

وَإِذَا رَأَوْهُمْ قَالُوٓا۟ إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ لَضَآلُّونَ ﴿٣٢﴾

32আর যখন তারা বিশ্বাসীদেরকে দেখত, তখন বলত, নিশ্চয় এরা বিভ্রান্ত।

وَمَآ أُرْسِلُوا۟ عَلَيْهِمْ حَٰفِظِينَ ﴿٣٣﴾

33অথচ তারা বিশ্বাসীদের তত্ত্বাবধায়করূপে প্রেরিত হয়নি।

فَٱلْيَوْمَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مِنَ ٱلْكُفَّارِ يَضْحَكُونَ ﴿٣٤﴾

34আজ যারা বিশ্বাসী, তারা কাফেরদেরকে উপহাস করছে।

عَلَى ٱلْأَرَآئِكِ يَنظُرُونَ ﴿٣٥﴾

35সিংহাসনে বসে, তাদেরকে অবলোকন করছে,

هَلْ ثُوِّبَ ٱلْكُفَّارُ مَا كَانُوا۟ يَفْعَلُونَ ﴿٣٦﴾

36কাফেররা যা করত, তার প্রতিফল পেয়েছে তো?

সূরা Al-Inshiqaq (1-25)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

إِذَا ٱلسَّمَآءُ ٱنشَقَّتْ ﴿١﴾

1যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে,

وَأَذِنَتْ لِرَبِّهَا وَحُقَّتْ ﴿٢﴾

2ও তার পালনকর্তার আদেশ পালন করবে এবং আকাশ এরই উপযুক্ত

وَإِذَا ٱلْأَرْضُ مُدَّتْ ﴿٣﴾

3এবং যখন পৃথিবীকে সম্প্রসারিত করা হবে।

وَأَلْقَتْ مَا فِيهَا وَتَخَلَّتْ ﴿٤﴾

4এবং পৃথিবী তার গর্ভস্থিত সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করবে ও শুন্যগর্ভ হয়ে যাবে।

وَأَذِنَتْ لِرَبِّهَا وَحُقَّتْ ﴿٥﴾

5এবং তার পালনকর্তার আদেশ পালন করবে এবং পৃথিবী এরই উপযুক্ত।

يَٰٓأَيُّهَا ٱلْإِنسَٰنُ إِنَّكَ كَادِحٌ إِلَىٰ رَبِّكَ كَدْحًۭا فَمُلَٰقِيهِ ﴿٦﴾

6হে মানুষ, তোমাকে তোমরা পালনকর্তা পর্যন্ত পৌছতে কষ্ট স্বীকার করতে হবে, অতঃপর তার সাক্ষাৎ ঘটবে।

فَأَمَّا مَنْ أُوتِىَ كِتَٰبَهُۥ بِيَمِينِهِۦ ﴿٧﴾

7যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে

فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًۭا يَسِيرًۭا ﴿٨﴾

8তার হিসাব-নিকাশ সহজে হয়ে যাবে

وَيَنقَلِبُ إِلَىٰٓ أَهْلِهِۦ مَسْرُورًۭا ﴿٩﴾

9এবং সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে হৃষ্টচিত্তে ফিরে যাবে

وَأَمَّا مَنْ أُوتِىَ كِتَٰبَهُۥ وَرَآءَ ظَهْرِهِۦ ﴿١٠﴾

10এবং যাকে তার আমলনামা পিঠের পশ্চাদ্দিক থেকে দেয়া, হবে,

فَسَوْفَ يَدْعُوا۟ ثُبُورًۭا ﴿١١﴾

11সে মৃত্যুকে আহবান করবে,

وَيَصْلَىٰ سَعِيرًا ﴿١٢﴾

12এবং জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

إِنَّهُۥ كَانَ فِىٓ أَهْلِهِۦ مَسْرُورًا ﴿١٣﴾

13সে তার পরিবার-পরিজনের মধ্যে আনন্দিত ছিল।

إِنَّهُۥ ظَنَّ أَن لَّن يَحُورَ ﴿١٤﴾

14সে মনে করত যে, সে কখনও ফিরে যাবে না।

بَلَىٰٓ إِنَّ رَبَّهُۥ كَانَ بِهِۦ بَصِيرًۭا ﴿١٥﴾

15কেন যাবে না, তার পালনকর্তা তো তাকে দেখতেন।

فَلَآ أُقْسِمُ بِٱلشَّفَقِ ﴿١٦﴾

16আমি শপথ করি সন্ধ্যাকালীন লাল আভার

وَٱلَّيْلِ وَمَا وَسَقَ ﴿١٧﴾

17এবং রাত্রির, এবং তাতে যার সমাবেশ ঘটে

وَٱلْقَمَرِ إِذَا ٱتَّسَقَ ﴿١٨﴾

18এবং চন্দ্রের, যখন তা পূর্ণরূপ লাভ করে,

لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَن طَبَقٍۢ ﴿١٩﴾

19নিশ্চয় তোমরা এক সিঁড়ি থেকে আরেক সিঁড়িতে আরোহণ করবে।

فَمَا لَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٢٠﴾

20অতএব, তাদের কি হল যে, তারা ঈমান আনে না?

وَإِذَا قُرِئَ عَلَيْهِمُ ٱلْقُرْءَانُ لَا يَسْجُدُونَ ۩ ﴿٢١﴾

21যখন তাদের কাছে কোরআন পাঠ করা হয়, তখন সেজদা করে না।

بَلِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ يُكَذِّبُونَ ﴿٢٢﴾

22বরং কাফেররা এর প্রতি মিথ্যারোপ করে।

وَٱللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُوعُونَ ﴿٢٣﴾

23তারা যা সংরক্ষণ করে, আল্লাহ তা জানেন।

فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ﴿٢٤﴾

24অতএব, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন।

إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍۭ ﴿٢٥﴾

25কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।

সূরা Al-Buruj (1-22)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

وَٱلسَّمَآءِ ذَاتِ ٱلْبُرُوجِ ﴿١﴾

1শপথ গ্রহ-নক্ষত্র শোভিত আকাশের,

وَٱلْيَوْمِ ٱلْمَوْعُودِ ﴿٢﴾

2এবং প্রতিশ্রুত দিবসের,

وَشَاهِدٍۢ وَمَشْهُودٍۢ ﴿٣﴾

3এবং সেই দিবসের, যে উপস্থিত হয় ও যাতে উপস্থিত হয়

قُتِلَ أَصْحَٰبُ ٱلْأُخْدُودِ ﴿٤﴾

4অভিশপ্ত হয়েছে গর্ত ওয়ালারা অর্থাৎ,

ٱلنَّارِ ذَاتِ ٱلْوَقُودِ ﴿٥﴾

5অনেক ইন্ধনের অগ্নিসংযোগকারীরা;

إِذْ هُمْ عَلَيْهَا قُعُودٌۭ ﴿٦﴾

6যখন তারা তার কিনারায় বসেছিল।

وَهُمْ عَلَىٰ مَا يَفْعَلُونَ بِٱلْمُؤْمِنِينَ شُهُودٌۭ ﴿٧﴾

7এবং তারা বিশ্বাসীদের সাথে যা করেছিল, তা নিরীক্ষণ করছিল।

وَمَا نَقَمُوا۟ مِنْهُمْ إِلَّآ أَن يُؤْمِنُوا۟ بِٱللَّهِ ٱلْعَزِيزِ ٱلْحَمِيدِ ﴿٨﴾

8তারা তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিল শুধু এ কারণে যে, তারা প্রশংসিত, পরাক্রান্ত আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল,

ٱلَّذِى لَهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۚ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ شَهِيدٌ ﴿٩﴾

9যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের ক্ষমতার মালিক, আল্লাহর সামনে রয়েছে সবকিছু।

إِنَّ ٱلَّذِينَ فَتَنُوا۟ ٱلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا۟ فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابُ ٱلْحَرِيقِ ﴿١٠﴾

10যারা মুমিন পুরুষ ও নারীকে নিপীড়ন করেছে, অতঃপর তওবা করেনি, তাদের জন্যে আছে জাহান্নামের শাস্তি, আর আছে দহন যন্ত্রণা,

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَهُمْ جَنَّٰتٌۭ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ ۚ ذَٰلِكَ ٱلْفَوْزُ ٱلْكَبِيرُ ﴿١١﴾

11যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্যে আছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় নির্ঝরিণীসমূহ। এটাই মহাসাফল্য।

إِنَّ بَطْشَ رَبِّكَ لَشَدِيدٌ ﴿١٢﴾

12নিশ্চয় তোমার পালনকর্তার পাকড়াও অত্যন্ত কঠিন।

إِنَّهُۥ هُوَ يُبْدِئُ وَيُعِيدُ ﴿١٣﴾

13তিনিই প্রথমবার অস্তিত্ব দান করেন এবং পুনরায় জীবিত করেন।

وَهُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلْوَدُودُ ﴿١٤﴾

14তিনি ক্ষমাশীল, প্রেমময়;

ذُو ٱلْعَرْشِ ٱلْمَجِيدُ ﴿١٥﴾

15মহান আরশের অধিকারী।

فَعَّالٌۭ لِّمَا يُرِيدُ ﴿١٦﴾

16তিনি যা চান, তাই করেন।

هَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ ٱلْجُنُودِ ﴿١٧﴾

17আপনার কাছে সৈন্যবাহিনীর ইতিবৃত্ত পৌছেছে কি?

فِرْعَوْنَ وَثَمُودَ ﴿١٨﴾

18ফেরাউনের এবং সামুদের?

بَلِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فِى تَكْذِيبٍۢ ﴿١٩﴾

19বরং যারা কাফের, তারা মিথ্যারোপে রত আছে।

وَٱللَّهُ مِن وَرَآئِهِم مُّحِيطٌۢ ﴿٢٠﴾

20আল্লাহ তাদেরকে চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।

بَلْ هُوَ قُرْءَانٌۭ مَّجِيدٌۭ ﴿٢١﴾

21বরং এটা মহান কোরআন,

فِى لَوْحٍۢ مَّحْفُوظٍۭ ﴿٢٢﴾

22লওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ।

সূরা At-Tariq (1-17)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

وَٱلسَّمَآءِ وَٱلطَّارِقِ ﴿١﴾

1শপথ আকাশের এবং রাত্রিতে আগমনকারীর।

وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلطَّارِقُ ﴿٢﴾

2আপনি জানেন, যে রাত্রিতে আসে সেটা কি?

ٱلنَّجْمُ ٱلثَّاقِبُ ﴿٣﴾

3সেটা এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

إِن كُلُّ نَفْسٍۢ لَّمَّا عَلَيْهَا حَافِظٌۭ ﴿٤﴾

4প্রত্যেকের উপর একজন তত্ত্বাবধায়ক রয়েছে।

فَلْيَنظُرِ ٱلْإِنسَٰنُ مِمَّ خُلِقَ ﴿٥﴾

5অতএব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে।

خُلِقَ مِن مَّآءٍۢ دَافِقٍۢ ﴿٦﴾

6সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে।

يَخْرُجُ مِنۢ بَيْنِ ٱلصُّلْبِ وَٱلتَّرَآئِبِ ﴿٧﴾

7এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে।

إِنَّهُۥ عَلَىٰ رَجْعِهِۦ لَقَادِرٌۭ ﴿٨﴾

8নিশ্চয় তিনি তাকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম।

يَوْمَ تُبْلَى ٱلسَّرَآئِرُ ﴿٩﴾

9যেদিন গোপন বিষয়াদি পরীক্ষিত হবে,

فَمَا لَهُۥ مِن قُوَّةٍۢ وَلَا نَاصِرٍۢ ﴿١٠﴾

10সেদিন তার কোন শক্তি থাকবে না এবং সাহায্যকারীও থাকবে না।

وَٱلسَّمَآءِ ذَاتِ ٱلرَّجْعِ ﴿١١﴾

11শপথ চক্রশীল আকাশের

وَٱلْأَرْضِ ذَاتِ ٱلصَّدْعِ ﴿١٢﴾

12এবং বিদারনশীল পৃথিবীর

إِنَّهُۥ لَقَوْلٌۭ فَصْلٌۭ ﴿١٣﴾

13নিশ্চয় কোরআন সত্য-মিথ্যার ফয়সালা।

وَمَا هُوَ بِٱلْهَزْلِ ﴿١٤﴾

14এবং এটা উপহাস নয়।

إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًۭا ﴿١٥﴾

15তারা ভীষণ চক্রান্ত করে,

وَأَكِيدُ كَيْدًۭا ﴿١٦﴾

16আর আমিও কৌশল করি।

فَمَهِّلِ ٱلْكَٰفِرِينَ أَمْهِلْهُمْ رُوَيْدًۢا ﴿١٧﴾

17অতএব, কাফেরদেরকে অবকাশ দিন, তাদেরকে অবকাশ দিন, কিছু দিনের জন্যে।

সূরা Al-A'la (1-19)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

سَبِّحِ ٱسْمَ رَبِّكَ ٱلْأَعْلَى ﴿١﴾

1আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ণনা করুন

ٱلَّذِى خَلَقَ فَسَوَّىٰ ﴿٢﴾

2যিনি সৃষ্টি করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন।

وَٱلَّذِى قَدَّرَ فَهَدَىٰ ﴿٣﴾

3এবং যিনি সুপরিমিত করেছেন ও পথ প্রদর্শন করেছেন

وَٱلَّذِىٓ أَخْرَجَ ٱلْمَرْعَىٰ ﴿٤﴾

4এবং যিনি তৃণাদি উৎপন্ন করেছেন,

فَجَعَلَهُۥ غُثَآءً أَحْوَىٰ ﴿٥﴾

5অতঃপর করেছেন তাকে কাল আবর্জনা।

سَنُقْرِئُكَ فَلَا تَنسَىٰٓ ﴿٦﴾

6আমি আপনাকে পাঠ করাতে থাকব, ফলে আপনি বিস্মৃত হবেন না

إِلَّا مَا شَآءَ ٱللَّهُ ۚ إِنَّهُۥ يَعْلَمُ ٱلْجَهْرَ وَمَا يَخْفَىٰ ﴿٧﴾

7আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। নিশ্চয় তিনি জানেন প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়।

وَنُيَسِّرُكَ لِلْيُسْرَىٰ ﴿٨﴾

8আমি আপনার জন্যে সহজ শরীয়ত সহজতর করে দেবো।

فَذَكِّرْ إِن نَّفَعَتِ ٱلذِّكْرَىٰ ﴿٩﴾

9উপদেশ ফলপ্রসূ হলে উপদেশ দান করুন,

سَيَذَّكَّرُ مَن يَخْشَىٰ ﴿١٠﴾

10যে ভয় করে, সে উপদেশ গ্রহণ করবে,

وَيَتَجَنَّبُهَا ٱلْأَشْقَى ﴿١١﴾

11আর যে, হতভাগা, সে তা উপেক্ষা করবে,

ٱلَّذِى يَصْلَى ٱلنَّارَ ٱلْكُبْرَىٰ ﴿١٢﴾

12সে মহা-অগ্নিতে প্রবেশ করবে।

ثُمَّ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَىٰ ﴿١٣﴾

13অতঃপর সেখানে সে মরবেও না, জীবিতও থাকবে না।

قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّىٰ ﴿١٤﴾

14নিশ্চয় সাফল্য লাভ করবে সে, যে শুদ্ধ হয়

وَذَكَرَ ٱسْمَ رَبِّهِۦ فَصَلَّىٰ ﴿١٥﴾

15এবং তার পালনকর্তার নাম স্মরণ করে, অতঃপর নামায আদায় করে।

بَلْ تُؤْثِرُونَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا ﴿١٦﴾

16বস্তুতঃ তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দাও,

وَٱلْءَاخِرَةُ خَيْرٌۭ وَأَبْقَىٰٓ ﴿١٧﴾

17অথচ পরকালের জীবন উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী।

إِنَّ هَٰذَا لَفِى ٱلصُّحُفِ ٱلْأُولَىٰ ﴿١٨﴾

18এটা লিখিত রয়েছে পূর্ববতী কিতাবসমূহে;

صُحُفِ إِبْرَٰهِيمَ وَمُوسَىٰ ﴿١٩﴾

19ইব্রাহীম ও মূসার কিতাবসমূহে।

সূরা Al-Ghashiyah (1-26)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

هَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ ٱلْغَٰشِيَةِ ﴿١﴾

1আপনার কাছে আচ্ছন্নকারী কেয়ামতের বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি?

وُجُوهٌۭ يَوْمَئِذٍ خَٰشِعَةٌ ﴿٢﴾

2অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে লাঞ্ছিত,

عَامِلَةٌۭ نَّاصِبَةٌۭ ﴿٣﴾

3ক্লিষ্ট, ক্লান্ত।

تَصْلَىٰ نَارًا حَامِيَةًۭ ﴿٤﴾

4তারা জ্বলন্ত আগুনে পতিত হবে।

تُسْقَىٰ مِنْ عَيْنٍ ءَانِيَةٍۢ ﴿٥﴾

5তাদেরকে ফুটন্ত নহর থেকে পান করানো হবে।

لَّيْسَ لَهُمْ طَعَامٌ إِلَّا مِن ضَرِيعٍۢ ﴿٦﴾

6কন্টকপূর্ণ ঝাড় ব্যতীত তাদের জন্যে কোন খাদ্য নেই।

لَّا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِى مِن جُوعٍۢ ﴿٧﴾

7এটা তাদেরকে পুষ্ট করবে না এবং ক্ষুধায়ও উপকার করবে না।

وُجُوهٌۭ يَوْمَئِذٍۢ نَّاعِمَةٌۭ ﴿٨﴾

8অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে, সজীব,

لِّسَعْيِهَا رَاضِيَةٌۭ ﴿٩﴾

9তাদের কর্মের কারণে সন্তুষ্ট।

فِى جَنَّةٍ عَالِيَةٍۢ ﴿١٠﴾

10তারা থাকবে, সুউচ্চ জান্নাতে।

لَّا تَسْمَعُ فِيهَا لَٰغِيَةًۭ ﴿١١﴾

11তথায় শুনবে না কোন অসার কথাবার্তা।

فِيهَا عَيْنٌۭ جَارِيَةٌۭ ﴿١٢﴾

12তথায় থাকবে প্রবাহিত ঝরণা।

فِيهَا سُرُرٌۭ مَّرْفُوعَةٌۭ ﴿١٣﴾

13তথায় থাকবে উন্নত সুসজ্জিত আসন।

وَأَكْوَابٌۭ مَّوْضُوعَةٌۭ ﴿١٤﴾

14এবং সংরক্ষিত পানপাত্র

وَنَمَارِقُ مَصْفُوفَةٌۭ ﴿١٥﴾

15এবং সারি সারি গালিচা

وَزَرَابِىُّ مَبْثُوثَةٌ ﴿١٦﴾

16এবং বিস্তৃত বিছানো কার্পেট।

أَفَلَا يَنظُرُونَ إِلَى ٱلْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ ﴿١٧﴾

17তারা কি উষ্ট্রের প্রতি লক্ষ্য করে না যে, তা কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে?

وَإِلَى ٱلسَّمَآءِ كَيْفَ رُفِعَتْ ﴿١٨﴾

18এবং আকাশের প্রতি লক্ষ্য করে না যে, তা কিভাবে উচ্চ করা হয়েছে?

وَإِلَى ٱلْجِبَالِ كَيْفَ نُصِبَتْ ﴿١٩﴾

19এবং পাহাড়ের দিকে যে, তা কিভাবে স্থাপন করা হয়েছে?

وَإِلَى ٱلْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ ﴿٢٠﴾

20এবং পৃথিবীর দিকে যে, তা কিভাবে সমতল বিছানো হয়েছে?

فَذَكِّرْ إِنَّمَآ أَنتَ مُذَكِّرٌۭ ﴿٢١﴾

21অতএব, আপনি উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা,

لَّسْتَ عَلَيْهِم بِمُصَيْطِرٍ ﴿٢٢﴾

22আপনি তাদের শাসক নন,

إِلَّا مَن تَوَلَّىٰ وَكَفَرَ ﴿٢٣﴾

23কিন্তু যে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও কাফের হয়ে যায়,

فَيُعَذِّبُهُ ٱللَّهُ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَكْبَرَ ﴿٢٤﴾

24আল্লাহ তাকে মহা আযাব দেবেন।

إِنَّ إِلَيْنَآ إِيَابَهُمْ ﴿٢٥﴾

25নিশ্চয় তাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট,

ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا حِسَابَهُم ﴿٢٦﴾

26অতঃপর তাদের হিসাব-নিকাশ আমারই দায়িত্ব।

সূরা Al-Fajr (1-30)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

وَٱلْفَجْرِ ﴿١﴾

1শপথ ফজরের,

وَلَيَالٍ عَشْرٍۢ ﴿٢﴾

2শপথ দশ রাত্রির, শপথ তার,

وَٱلشَّفْعِ وَٱلْوَتْرِ ﴿٣﴾

3যা জোড় ও যা বিজোড়

وَٱلَّيْلِ إِذَا يَسْرِ ﴿٤﴾

4এবং শপথ রাত্রির যখন তা গত হতে থাকে

هَلْ فِى ذَٰلِكَ قَسَمٌۭ لِّذِى حِجْرٍ ﴿٥﴾

5এর মধ্যে আছে শপথ জ্ঞানী ব্যক্তির জন্যে।

أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ ﴿٦﴾

6আপনি কি লক্ষ্য করেননি, আপনার পালনকর্তা আদ বংশের ইরাম গোত্রের সাথে কি আচরণ করেছিলেন,

إِرَمَ ذَاتِ ٱلْعِمَادِ ﴿٧﴾

7যাদের দৈহিক গঠন স্তম্ভ ও খুঁটির ন্যায় দীর্ঘ ছিল এবং

ٱلَّتِى لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِى ٱلْبِلَٰدِ ﴿٨﴾

8যাদের সমান শক্তি ও বলবীর্যে সারা বিশ্বের শহরসমূহে কোন লোক সৃজিত হয়নি

وَثَمُودَ ٱلَّذِينَ جَابُوا۟ ٱلصَّخْرَ بِٱلْوَادِ ﴿٩﴾

9এবং সামুদ গোত্রের সাথে, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে গৃহ নির্মাণ করেছিল।

وَفِرْعَوْنَ ذِى ٱلْأَوْتَادِ ﴿١٠﴾

10এবং বহু কীলকের অধিপতি ফেরাউনের সাথে

ٱلَّذِينَ طَغَوْا۟ فِى ٱلْبِلَٰدِ ﴿١١﴾

11যারা দেশে সীমালঙ্ঘন করেছিল।

فَأَكْثَرُوا۟ فِيهَا ٱلْفَسَادَ ﴿١٢﴾

12অতঃপর সেখানে বিস্তর অশান্তি সৃষ্টি করেছিল।

فَصَبَّ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ سَوْطَ عَذَابٍ ﴿١٣﴾

13অতঃপর আপনার পালনকর্তা তাদেরকে শাস্তির কশাঘাত করলেন।

إِنَّ رَبَّكَ لَبِٱلْمِرْصَادِ ﴿١٤﴾

14নিশ্চয় আপনার পালকর্তা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।

فَأَمَّا ٱلْإِنسَٰنُ إِذَا مَا ٱبْتَلَىٰهُ رَبُّهُۥ فَأَكْرَمَهُۥ وَنَعَّمَهُۥ فَيَقُولُ رَبِّىٓ أَكْرَمَنِ ﴿١٥﴾

15মানুষ এরূপ যে, যখন তার পালনকর্তা তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর সম্মান ও অনুগ্রহ দান করেন, তখন বলে, আমার পালনকর্তা আমাকে সম্মান দান করেছেন।

وَأَمَّآ إِذَا مَا ٱبْتَلَىٰهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُۥ فَيَقُولُ رَبِّىٓ أَهَٰنَنِ ﴿١٦﴾

16এবং যখন তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর রিযিক সংকুচিত করে দেন, তখন বলেঃ আমার পালনকর্তা আমাকে হেয় করেছেন।

كَلَّا ۖ بَل لَّا تُكْرِمُونَ ٱلْيَتِيمَ ﴿١٧﴾

17এটা অমূলক, বরং তোমরা এতীমকে সম্মান কর না।

وَلَا تَحَٰٓضُّونَ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلْمِسْكِينِ ﴿١٨﴾

18এবং মিসকীনকে অন্নদানে পরস্পরকে উৎসাহিত কর না।

وَتَأْكُلُونَ ٱلتُّرَاثَ أَكْلًۭا لَّمًّۭا ﴿١٩﴾

19এবং তোমরা মৃতের ত্যাজ্য সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে কুক্ষিগত করে ফেল

وَتُحِبُّونَ ٱلْمَالَ حُبًّۭا جَمًّۭا ﴿٢٠﴾

20এবং তোমরা ধন-সম্পদকে প্রাণভরে ভালবাস।

كَلَّآ إِذَا دُكَّتِ ٱلْأَرْضُ دَكًّۭا دَكًّۭا ﴿٢١﴾

21এটা অনুচিত। যখন পৃথিবী চুর্ণ-বিচুর্ণ হবে

وَجَآءَ رَبُّكَ وَٱلْمَلَكُ صَفًّۭا صَفًّۭا ﴿٢٢﴾

22এবং আপনার পালনকর্তা ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবেন,

وَجِا۟ىٓءَ يَوْمَئِذٍۭ بِجَهَنَّمَ ۚ يَوْمَئِذٍۢ يَتَذَكَّرُ ٱلْإِنسَٰنُ وَأَنَّىٰ لَهُ ٱلذِّكْرَىٰ ﴿٢٣﴾

23এবং সেদিন জাহান্নামকে আনা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু এই স্মরণ তার কি কাজে আসবে?

يَقُولُ يَٰلَيْتَنِى قَدَّمْتُ لِحَيَاتِى ﴿٢٤﴾

24সে বলবেঃ হায়, এ জীবনের জন্যে আমি যদি কিছু অগ্রে প্রেরণ করতাম!

فَيَوْمَئِذٍۢ لَّا يُعَذِّبُ عَذَابَهُۥٓ أَحَدٌۭ ﴿٢٥﴾

25সেদিন তার শাস্তির মত শাস্তি কেউ দিবে না।

وَلَا يُوثِقُ وَثَاقَهُۥٓ أَحَدٌۭ ﴿٢٦﴾

26এবং তার বন্ধনের মত বন্ধন কেউ দিবে না।

يَٰٓأَيَّتُهَا ٱلنَّفْسُ ٱلْمُطْمَئِنَّةُ ﴿٢٧﴾

27হে প্রশান্ত মন,

ٱرْجِعِىٓ إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةًۭ مَّرْضِيَّةًۭ ﴿٢٨﴾

28তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে।

فَٱدْخُلِى فِى عِبَٰدِى ﴿٢٩﴾

29অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও।

وَٱدْخُلِى جَنَّتِى ﴿٣٠﴾

30এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।

সূরা Al-Balad (1-20)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

لَآ أُقْسِمُ بِهَٰذَا ٱلْبَلَدِ ﴿١﴾

1আমি এই নগরীর শপথ করি

وَأَنتَ حِلٌّۢ بِهَٰذَا ٱلْبَلَدِ ﴿٢﴾

2এবং এই নগরীতে আপনার উপর কোন প্রতিবন্ধকতা নেই।

وَوَالِدٍۢ وَمَا وَلَدَ ﴿٣﴾

3শপথ জনকের ও যা জন্ম দেয়।

لَقَدْ خَلَقْنَا ٱلْإِنسَٰنَ فِى كَبَدٍ ﴿٤﴾

4নিশ্চয় আমি মানুষকে শ্রমনির্ভররূপে সৃষ্টি করেছি।

أَيَحْسَبُ أَن لَّن يَقْدِرَ عَلَيْهِ أَحَدٌۭ ﴿٥﴾

5সে কি মনে করে যে, তার উপর কেউ ক্ষমতাবান হবে না ?

يَقُولُ أَهْلَكْتُ مَالًۭا لُّبَدًا ﴿٦﴾

6সে বলেঃ আমি প্রচুর ধন-সম্পদ ব্যয় করেছি।

أَيَحْسَبُ أَن لَّمْ يَرَهُۥٓ أَحَدٌ ﴿٧﴾

7সে কি মনে করে যে, তাকে কেউ দেখেনি?

أَلَمْ نَجْعَل لَّهُۥ عَيْنَيْنِ ﴿٨﴾

8আমি কি তাকে দেইনি চক্ষুদ্বয়,

وَلِسَانًۭا وَشَفَتَيْنِ ﴿٩﴾

9জিহবা ও ওষ্ঠদ্বয় ?

وَهَدَيْنَٰهُ ٱلنَّجْدَيْنِ ﴿١٠﴾

10বস্তুতঃ আমি তাকে দু’টি পথ প্রদর্শন করেছি।

فَلَا ٱقْتَحَمَ ٱلْعَقَبَةَ ﴿١١﴾

11অতঃপর সে ধর্মের ঘাঁটিতে প্রবেশ করেনি।

وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلْعَقَبَةُ ﴿١٢﴾

12আপনি জানেন, সে ঘাঁটি কি?

فَكُّ رَقَبَةٍ ﴿١٣﴾

13তা হচ্ছে দাসমুক্তি

أَوْ إِطْعَٰمٌۭ فِى يَوْمٍۢ ذِى مَسْغَبَةٍۢ ﴿١٤﴾

14অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান।

يَتِيمًۭا ذَا مَقْرَبَةٍ ﴿١٥﴾

15এতীম আত্বীয়কে

أَوْ مِسْكِينًۭا ذَا مَتْرَبَةٍۢ ﴿١٦﴾

16অথবা ধুলি-ধুসরিত মিসকীনকে

ثُمَّ كَانَ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَتَوَاصَوْا۟ بِٱلصَّبْرِ وَتَوَاصَوْا۟ بِٱلْمَرْحَمَةِ ﴿١٧﴾

17অতঃপর তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, যারা ঈমান আনে এবং পরস্পরকে উপদেশ দেয় সবরের ও উপদেশ দেয় দয়ার।

أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلْمَيْمَنَةِ ﴿١٨﴾

18তারাই সৌভাগ্যশালী।

وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا هُمْ أَصْحَٰبُ ٱلْمَشْـَٔمَةِ ﴿١٩﴾

19আর যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে তারাই হতভাগা।

عَلَيْهِمْ نَارٌۭ مُّؤْصَدَةٌۢ ﴿٢٠﴾

20তারা অগ্নিপরিবেষ্টিত অবস্থায় বন্দী থাকবে।

সূরা Ash-Shams (1-15)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

وَٱلشَّمْسِ وَضُحَىٰهَا ﴿١﴾

1শপথ সূর্যের ও তার কিরণের,

وَٱلْقَمَرِ إِذَا تَلَىٰهَا ﴿٢﴾

2শপথ চন্দ্রের যখন তা সূর্যের পশ্চাতে আসে,

وَٱلنَّهَارِ إِذَا جَلَّىٰهَا ﴿٣﴾

3শপথ দিবসের যখন সে সূর্যকে প্রখরভাবে প্রকাশ করে,

وَٱلَّيْلِ إِذَا يَغْشَىٰهَا ﴿٤﴾

4শপথ রাত্রির যখন সে সূর্যকে আচ্ছাদিত করে,

وَٱلسَّمَآءِ وَمَا بَنَىٰهَا ﴿٥﴾

5শপথ আকাশের এবং যিনি তা নির্মাণ করেছেন, তাঁর।

وَٱلْأَرْضِ وَمَا طَحَىٰهَا ﴿٦﴾

6শপথ পৃথিবীর এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন, তাঁর,

وَنَفْسٍۢ وَمَا سَوَّىٰهَا ﴿٧﴾

7শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর,

فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَىٰهَا ﴿٨﴾

8অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন,

قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّىٰهَا ﴿٩﴾

9যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়।

وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّىٰهَا ﴿١٠﴾

10এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।

كَذَّبَتْ ثَمُودُ بِطَغْوَىٰهَآ ﴿١١﴾

11সামুদ সম্প্রদায় অবাধ্যতা বশতঃ মিথ্যারোপ করেছিল।

إِذِ ٱنۢبَعَثَ أَشْقَىٰهَا ﴿١٢﴾

12যখন তাদের সর্বাধিক হতভাগ্য ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠেছিল।

فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ ٱللَّهِ نَاقَةَ ٱللَّهِ وَسُقْيَٰهَا ﴿١٣﴾

13অতঃপর আল্লাহর রসূল তাদেরকে বলেছিলেনঃ আল্লাহর উষ্ট্রী ও তাকে পানি পান করানোর ব্যাপারে সতর্ক থাক।

فَكَذَّبُوهُ فَعَقَرُوهَا فَدَمْدَمَ عَلَيْهِمْ رَبُّهُم بِذَنۢبِهِمْ فَسَوَّىٰهَا ﴿١٤﴾

14অতঃপর ওরা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল এবং উষ্ট্রীর পা কর্তন করেছিল। তাদের পাপের কারণে তাদের পালনকর্তা তাদের উপর ধ্বংস নাযিল করে একাকার করে দিলেন।

وَلَا يَخَافُ عُقْبَٰهَا ﴿١٥﴾

15আল্লাহ তা’আলা এই ধ্বংসের কোন বিরূপ পরিণতির আশংকা করেন না।

সূরা Al-Layl (1-21)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

وَٱلَّيْلِ إِذَا يَغْشَىٰ ﴿١﴾

1শপথ রাত্রির, যখন সে আচ্ছন্ন করে,

وَٱلنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّىٰ ﴿٢﴾

2শপথ দিনের, যখন সে আলোকিত হয়

وَمَا خَلَقَ ٱلذَّكَرَ وَٱلْأُنثَىٰٓ ﴿٣﴾

3এবং তাঁর, যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন,

إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّىٰ ﴿٤﴾

4নিশ্চয় তোমাদের কর্ম প্রচেষ্টা বিভিন্ন ধরনের।

فَأَمَّا مَنْ أَعْطَىٰ وَٱتَّقَىٰ ﴿٥﴾

5অতএব, যে দান করে এবং খোদাভীরু হয়,

وَصَدَّقَ بِٱلْحُسْنَىٰ ﴿٦﴾

6এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে,

فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلْيُسْرَىٰ ﴿٧﴾

7আমি তাকে সুখের বিষয়ের জন্যে সহজ পথ দান করব।

وَأَمَّا مَنۢ بَخِلَ وَٱسْتَغْنَىٰ ﴿٨﴾

8আর যে কৃপণতা করে ও বেপরওয়া হয়

وَكَذَّبَ بِٱلْحُسْنَىٰ ﴿٩﴾

9এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা মনে করে,

فَسَنُيَسِّرُهُۥ لِلْعُسْرَىٰ ﴿١٠﴾

10আমি তাকে কষ্টের বিষয়ের জন্যে সহজ পথ দান করব।

وَمَا يُغْنِى عَنْهُ مَالُهُۥٓ إِذَا تَرَدَّىٰٓ ﴿١١﴾

11যখন সে অধঃপতিত হবে, তখন তার সম্পদ তার কোনই কাজে আসবে না।

إِنَّ عَلَيْنَا لَلْهُدَىٰ ﴿١٢﴾

12আমার দায়িত্ব পথ প্রদর্শন করা।

وَإِنَّ لَنَا لَلْءَاخِرَةَ وَٱلْأُولَىٰ ﴿١٣﴾

13আর আমি মালিক ইহকালের ও পরকালের।

فَأَنذَرْتُكُمْ نَارًۭا تَلَظَّىٰ ﴿١٤﴾

14অতএব, আমি তোমাদেরকে প্রজ্বলিত অগ্নি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছি।

لَا يَصْلَىٰهَآ إِلَّا ٱلْأَشْقَى ﴿١٥﴾

15এতে নিতান্ত হতভাগ্য ব্যক্তিই প্রবেশ করবে,

ٱلَّذِى كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ ﴿١٦﴾

16যে মিথ্যারোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।

وَسَيُجَنَّبُهَا ٱلْأَتْقَى ﴿١٧﴾

17এ থেকে দূরে রাখা হবে খোদাভীরু ব্যক্তিকে,

ٱلَّذِى يُؤْتِى مَالَهُۥ يَتَزَكَّىٰ ﴿١٨﴾

18যে আত্নশুদ্ধির জন্যে তার ধন-সম্পদ দান করে।

وَمَا لِأَحَدٍ عِندَهُۥ مِن نِّعْمَةٍۢ تُجْزَىٰٓ ﴿١٩﴾

19এবং তার উপর কারও কোন প্রতিদানযোগ্য অনুগ্রহ থাকে না।

إِلَّا ٱبْتِغَآءَ وَجْهِ رَبِّهِ ٱلْأَعْلَىٰ ﴿٢٠﴾

20তার মহান পালনকর্তার সন্তুষ্টি অন্বেষণ ব্যতীত।

وَلَسَوْفَ يَرْضَىٰ ﴿٢١﴾

21সে সত্বরই সন্তুষ্টি লাভ করবে।

সূরা Ad-Duhaa (1-11)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

وَٱلضُّحَىٰ ﴿١﴾

1শপথ পূর্বাহ্নের,

وَٱلَّيْلِ إِذَا سَجَىٰ ﴿٢﴾

2শপথ রাত্রির যখন তা গভীর হয়,

مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَىٰ ﴿٣﴾

3আপনার পালনকর্তা আপনাকে ত্যাগ করেনি এবং আপনার প্রতি বিরূপও হননি।

وَلَلْءَاخِرَةُ خَيْرٌۭ لَّكَ مِنَ ٱلْأُولَىٰ ﴿٤﴾

4আপনার জন্যে পরকাল ইহকাল অপেক্ষা শ্রেয়।

وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَىٰٓ ﴿٥﴾

5আপনার পালনকর্তা সত্বরই আপনাকে দান করবেন, অতঃপর আপনি সন্তুষ্ট হবেন।

أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًۭا فَـَٔاوَىٰ ﴿٦﴾

6তিনি কি আপনাকে এতীমরূপে পাননি? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন।

وَوَجَدَكَ ضَآلًّۭا فَهَدَىٰ ﴿٧﴾

7তিনি আপনাকে পেয়েছেন পথহারা, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন।

وَوَجَدَكَ عَآئِلًۭا فَأَغْنَىٰ ﴿٨﴾

8তিনি আপনাকে পেয়েছেন নিঃস্ব, অতঃপর অভাবমুক্ত করেছেন।

فَأَمَّا ٱلْيَتِيمَ فَلَا تَقْهَرْ ﴿٩﴾

9সুতরাং আপনি এতীমের প্রতি কঠোর হবেন না;

وَأَمَّا ٱلسَّآئِلَ فَلَا تَنْهَرْ ﴿١٠﴾

10সওয়ালকারীকে ধমক দেবেন না।

وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ ﴿١١﴾

11এবং আপনার পালনকর্তার নেয়ামতের কথা প্রকাশ করুন।

সূরা Ash-Sharh (1-8)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ ﴿١﴾

1আমি কি আপনার বক্ষ উম্মুক্ত করে দেইনি?

وَوَضَعْنَا عَنكَ وِزْرَكَ ﴿٢﴾

2আমি লাঘব করেছি আপনার বোঝা,

ٱلَّذِىٓ أَنقَضَ ظَهْرَكَ ﴿٣﴾

3যা ছিল আপনার জন্যে অতিশয় দুঃসহ।

وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ ﴿٤﴾

4আমি আপনার আলোচনাকে সমুচ্চ করেছি।

فَإِنَّ مَعَ ٱلْعُسْرِ يُسْرًا ﴿٥﴾

5নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।

إِنَّ مَعَ ٱلْعُسْرِ يُسْرًۭا ﴿٦﴾

6নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।

فَإِذَا فَرَغْتَ فَٱنصَبْ ﴿٧﴾

7অতএব, যখন অবসর পান পরিশ্রম করুন।

وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَٱرْغَب ﴿٨﴾

8এবং আপনার পালনকর্তার প্রতি মনোনিবেশ করুন।

সূরা At-Tin (1-8)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

وَٱلتِّينِ وَٱلزَّيْتُونِ ﴿١﴾

1শপথ আঞ্জীর (ডুমুর) ও যয়তুনের,

وَطُورِ سِينِينَ ﴿٢﴾

2এবং সিনাই প্রান্তরস্থ তূর পর্বতের,

وَهَٰذَا ٱلْبَلَدِ ٱلْأَمِينِ ﴿٣﴾

3এবং এই নিরাপদ নগরীর।

لَقَدْ خَلَقْنَا ٱلْإِنسَٰنَ فِىٓ أَحْسَنِ تَقْوِيمٍۢ ﴿٤﴾

4আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে।

ثُمَّ رَدَدْنَٰهُ أَسْفَلَ سَٰفِلِينَ ﴿٥﴾

5অতঃপর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে।

إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فَلَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍۢ ﴿٦﴾

6কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে অশেষ পুরস্কার।

فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعْدُ بِٱلدِّينِ ﴿٧﴾

7অতঃপর কেন তুমি অবিশ্বাস করছ কেয়ামতকে?

أَلَيْسَ ٱللَّهُ بِأَحْكَمِ ٱلْحَٰكِمِينَ ﴿٨﴾

8আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্টতম বিচারক নন?

সূরা Al-'Alaq (1-19)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

ٱقْرَأْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلَّذِى خَلَقَ ﴿١﴾

1পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন

خَلَقَ ٱلْإِنسَٰنَ مِنْ عَلَقٍ ﴿٢﴾

2সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে।

ٱقْرَأْ وَرَبُّكَ ٱلْأَكْرَمُ ﴿٣﴾

3পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু,

ٱلَّذِى عَلَّمَ بِٱلْقَلَمِ ﴿٤﴾

4যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন,

عَلَّمَ ٱلْإِنسَٰنَ مَا لَمْ يَعْلَمْ ﴿٥﴾

5শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।

كَلَّآ إِنَّ ٱلْإِنسَٰنَ لَيَطْغَىٰٓ ﴿٦﴾

6সত্যি সত্যি মানুষ সীমালংঘন করে,

أَن رَّءَاهُ ٱسْتَغْنَىٰٓ ﴿٧﴾

7এ কারণে যে, সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে।

إِنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ ٱلرُّجْعَىٰٓ ﴿٨﴾

8নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার দিকেই প্রত্যাবর্তন হবে।

أَرَءَيْتَ ٱلَّذِى يَنْهَىٰ ﴿٩﴾

9আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে নিষেধ করে

عَبْدًا إِذَا صَلَّىٰٓ ﴿١٠﴾

10এক বান্দাকে যখন সে নামায পড়ে?

أَرَءَيْتَ إِن كَانَ عَلَى ٱلْهُدَىٰٓ ﴿١١﴾

11আপনি কি দেখেছেন যদি সে সৎপথে থাকে।

أَوْ أَمَرَ بِٱلتَّقْوَىٰٓ ﴿١٢﴾

12অথবা খোদাভীতি শিক্ষা দেয়।

أَرَءَيْتَ إِن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰٓ ﴿١٣﴾

13আপনি কি দেখেছেন, যদি সে মিথ্যারোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।

أَلَمْ يَعْلَم بِأَنَّ ٱللَّهَ يَرَىٰ ﴿١٤﴾

14সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন?

كَلَّا لَئِن لَّمْ يَنتَهِ لَنَسْفَعًۢا بِٱلنَّاصِيَةِ ﴿١٥﴾

15কখনই নয়, যদি সে বিরত না হয়, তবে আমি মস্তকের সামনের কেশগুচ্ছ ধরে হেঁচড়াবই-

نَاصِيَةٍۢ كَٰذِبَةٍ خَاطِئَةٍۢ ﴿١٦﴾

16মিথ্যাচারী, পাপীর কেশগুচ্ছ।

فَلْيَدْعُ نَادِيَهُۥ ﴿١٧﴾

17অতএব, সে তার সভাসদদেরকে আহবান করুক।

سَنَدْعُ ٱلزَّبَانِيَةَ ﴿١٨﴾

18আমিও আহবান করব জাহান্নামের প্রহরীদেরকে

كَلَّا لَا تُطِعْهُ وَٱسْجُدْ وَٱقْتَرِب ۩ ﴿١٩﴾

19কখনই নয়, আপনি তার আনুগত্য করবেন না। আপনি সেজদা করুন ও আমার নৈকট্য অর্জন করুন।

সূরা Al-Qadr (1-5)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ فِى لَيْلَةِ ٱلْقَدْرِ ﴿١﴾

1আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে।

وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ ﴿٢﴾

2শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন?

لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ خَيْرٌۭ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍۢ ﴿٣﴾

3শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

تَنَزَّلُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍۢ ﴿٤﴾

4এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।

سَلَٰمٌ هِىَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ ٱلْفَجْرِ ﴿٥﴾

5এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

সূরা Al-Bayyinah (1-8)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

لَمْ يَكُنِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ وَٱلْمُشْرِكِينَ مُنفَكِّينَ حَتَّىٰ تَأْتِيَهُمُ ٱلْبَيِّنَةُ ﴿١﴾

1আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের ছিল, তারা প্রত্যাবর্তন করত না যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসত।

رَسُولٌۭ مِّنَ ٱللَّهِ يَتْلُوا۟ صُحُفًۭا مُّطَهَّرَةًۭ ﴿٢﴾

2অর্থাৎ আল্লাহর একজন রসূল, যিনি আবৃত্তি করতেন পবিত্র সহীফা,

فِيهَا كُتُبٌۭ قَيِّمَةٌۭ ﴿٣﴾

3যাতে আছে, সঠিক বিষয়বস্তু।

وَمَا تَفَرَّقَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ إِلَّا مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْهُمُ ٱلْبَيِّنَةُ ﴿٤﴾

4অপর কিতাব প্রাপ্তরা যে বিভ্রান্ত হয়েছে, তা হয়েছে তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরেই।

وَمَآ أُمِرُوٓا۟ إِلَّا لِيَعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤْتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ ۚ وَذَٰلِكَ دِينُ ٱلْقَيِّمَةِ ﴿٥﴾

5তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম।

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ وَٱلْمُشْرِكِينَ فِى نَارِ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَآ ۚ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمْ شَرُّ ٱلْبَرِيَّةِ ﴿٦﴾

6আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম।

إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمْ خَيْرُ ٱلْبَرِيَّةِ ﴿٧﴾

7যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির সেরা।

جَزَآؤُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّٰتُ عَدْنٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًۭا ۖ رَّضِىَ ٱللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا۟ عَنْهُ ۚ ذَٰلِكَ لِمَنْ خَشِىَ رَبَّهُۥ ﴿٨﴾

8তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যে, যে তার পালনকর্তাকে ভয় কর।

সূরা Az-Zalzalah (1-8)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

إِذَا زُلْزِلَتِ ٱلْأَرْضُ زِلْزَالَهَا ﴿١﴾

1যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে,

وَأَخْرَجَتِ ٱلْأَرْضُ أَثْقَالَهَا ﴿٢﴾

2যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে।

وَقَالَ ٱلْإِنسَٰنُ مَا لَهَا ﴿٣﴾

3এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ?

يَوْمَئِذٍۢ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا ﴿٤﴾

4সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে,

بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَىٰ لَهَا ﴿٥﴾

5কারণ, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন।

يَوْمَئِذٍۢ يَصْدُرُ ٱلنَّاسُ أَشْتَاتًۭا لِّيُرَوْا۟ أَعْمَٰلَهُمْ ﴿٦﴾

6সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়।

فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًۭا يَرَهُۥ ﴿٧﴾

7অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে

وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍۢ شَرًّۭا يَرَهُۥ ﴿٨﴾

8এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।

সূরা Al-'Adiyat (1-11)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

وَٱلْعَٰدِيَٰتِ ضَبْحًۭا ﴿١﴾

1শপথ উর্ধ্বশ্বাসে চলমান অশ্বসমূহের,

فَٱلْمُورِيَٰتِ قَدْحًۭا ﴿٢﴾

2অতঃপর ক্ষুরাঘাতে অগ্নিবিচ্ছুরক অশ্বসমূহের

فَٱلْمُغِيرَٰتِ صُبْحًۭا ﴿٣﴾

3অতঃপর প্রভাতকালে আক্রমণকারী অশ্বসমূহের

فَأَثَرْنَ بِهِۦ نَقْعًۭا ﴿٤﴾

4ও যারা সে সময়ে ধুলি উৎক্ষিপ্ত করে

فَوَسَطْنَ بِهِۦ جَمْعًا ﴿٥﴾

5অতঃপর যারা শক্রদলের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে-

إِنَّ ٱلْإِنسَٰنَ لِرَبِّهِۦ لَكَنُودٌۭ ﴿٦﴾

6নিশ্চয় মানুষ তার পালনকর্তার প্রতি অকৃতজ্ঞ।

وَإِنَّهُۥ عَلَىٰ ذَٰلِكَ لَشَهِيدٌۭ ﴿٧﴾

7এবং সে অবশ্য এ বিষয়ে অবহিত

وَإِنَّهُۥ لِحُبِّ ٱلْخَيْرِ لَشَدِيدٌ ﴿٨﴾

8এবং সে নিশ্চিতই ধন-সম্পদের ভালবাসায় মত্ত।

۞ أَفَلَا يَعْلَمُ إِذَا بُعْثِرَ مَا فِى ٱلْقُبُورِ ﴿٩﴾

9সে কি জানে না, যখন কবরে যা আছে, তা উত্থিত হবে

وَحُصِّلَ مَا فِى ٱلصُّدُورِ ﴿١٠﴾

10এবং অন্তরে যা আছে, তা অর্জন করা হবে?

إِنَّ رَبَّهُم بِهِمْ يَوْمَئِذٍۢ لَّخَبِيرٌۢ ﴿١١﴾

11সেদিন তাদের কি হবে, সে সম্পর্কে তাদের পালনকর্তা সবিশেষ জ্ঞাত।

সূরা Al-Qari'ah (1-11)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

ٱلْقَارِعَةُ ﴿١﴾

1করাঘাতকারী,

مَا ٱلْقَارِعَةُ ﴿٢﴾

2করাঘাতকারী কি?

وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلْقَارِعَةُ ﴿٣﴾

3করাঘাতকারী সম্পর্কে আপনি কি জানেন ?

يَوْمَ يَكُونُ ٱلنَّاسُ كَٱلْفَرَاشِ ٱلْمَبْثُوثِ ﴿٤﴾

4যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতংগের মত

وَتَكُونُ ٱلْجِبَالُ كَٱلْعِهْنِ ٱلْمَنفُوشِ ﴿٥﴾

5এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গীন পশমের মত।

فَأَمَّا مَن ثَقُلَتْ مَوَٰزِينُهُۥ ﴿٦﴾

6অতএব যার পাল্লা ভারী হবে,

فَهُوَ فِى عِيشَةٍۢ رَّاضِيَةٍۢ ﴿٧﴾

7সে সুখীজীবন যাপন করবে।

وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَٰزِينُهُۥ ﴿٨﴾

8আর যার পাল্লা হালকা হবে,

فَأُمُّهُۥ هَاوِيَةٌۭ ﴿٩﴾

9তার ঠিকানা হবে হাবিয়া।

وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا هِيَهْ ﴿١٠﴾

10আপনি জানেন তা কি?

نَارٌ حَامِيَةٌۢ ﴿١١﴾

11প্রজ্জ্বলিত অগ্নি!

সূরা At-Takathur (1-8)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

أَلْهَىٰكُمُ ٱلتَّكَاثُرُ ﴿١﴾

1প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে,

حَتَّىٰ زُرْتُمُ ٱلْمَقَابِرَ ﴿٢﴾

2এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌছে যাও।

كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ ﴿٣﴾

3এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে।

ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ ﴿٤﴾

4অতঃপর এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে।

كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ ٱلْيَقِينِ ﴿٥﴾

5কখনই নয়; যদি তোমরা নিশ্চিত জানতে।

لَتَرَوُنَّ ٱلْجَحِيمَ ﴿٦﴾

6তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে,

ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ ٱلْيَقِينِ ﴿٧﴾

7অতঃপর তোমরা তা অবশ্যই দেখবে দিব্য প্রত্যয়ে,

ثُمَّ لَتُسْـَٔلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ ٱلنَّعِيمِ ﴿٨﴾

8এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।

সূরা Al-'Asr (1-3)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

وَٱلْعَصْرِ ﴿١﴾

1কসম যুগের (সময়ের),

إِنَّ ٱلْإِنسَٰنَ لَفِى خُسْرٍ ﴿٢﴾

2নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত;

إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَتَوَاصَوْا۟ بِٱلْحَقِّ وَتَوَاصَوْا۟ بِٱلصَّبْرِ ﴿٣﴾

3কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের।

সূরা Al-Humazah (1-9)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

وَيْلٌۭ لِّكُلِّ هُمَزَةٍۢ لُّمَزَةٍ ﴿١﴾

1প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ,

ٱلَّذِى جَمَعَ مَالًۭا وَعَدَّدَهُۥ ﴿٢﴾

2যে অর্থ সঞ্চিত করে ও গণনা করে

يَحْسَبُ أَنَّ مَالَهُۥٓ أَخْلَدَهُۥ ﴿٣﴾

3সে মনে করে যে, তার অর্থ চিরকাল তার সাথে থাকবে!

كَلَّا ۖ لَيُنۢبَذَنَّ فِى ٱلْحُطَمَةِ ﴿٤﴾

4কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে।

وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا ٱلْحُطَمَةُ ﴿٥﴾

5আপনি কি জানেন, পিষ্টকারী কি?

نَارُ ٱللَّهِ ٱلْمُوقَدَةُ ﴿٦﴾

6এটা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত অগ্নি,

ٱلَّتِى تَطَّلِعُ عَلَى ٱلْأَفْـِٔدَةِ ﴿٧﴾

7যা হৃদয় পর্যন্ত পৌছবে।

إِنَّهَا عَلَيْهِم مُّؤْصَدَةٌۭ ﴿٨﴾

8এতে তাদেরকে বেঁধে দেয়া হবে,

فِى عَمَدٍۢ مُّمَدَّدَةٍۭ ﴿٩﴾

9লম্বা লম্বা খুঁটিতে।

সূরা Al-Fil (1-5)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَٰبِ ٱلْفِيلِ ﴿١﴾

1আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন?

أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِى تَضْلِيلٍۢ ﴿٢﴾

2তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি?

وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ ﴿٣﴾

3তিনি তাদের উপর প্রেরণ করেছেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী,

تَرْمِيهِم بِحِجَارَةٍۢ مِّن سِجِّيلٍۢ ﴿٤﴾

4যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করছিল।

فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍۢ مَّأْكُولٍۭ ﴿٥﴾

5অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেন।

সূরা Quraysh (1-4)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

لِإِيلَٰفِ قُرَيْشٍ ﴿١﴾

1কোরাইশের আসক্তির কারণে,

إِۦلَٰفِهِمْ رِحْلَةَ ٱلشِّتَآءِ وَٱلصَّيْفِ ﴿٢﴾

2আসক্তির কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের।

فَلْيَعْبُدُوا۟ رَبَّ هَٰذَا ٱلْبَيْتِ ﴿٣﴾

3অতএব তারা যেন এবাদত করে এই ঘরের পালনকর্তার

ٱلَّذِىٓ أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍۢ وَءَامَنَهُم مِّنْ خَوْفٍۭ ﴿٤﴾

4যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং যুদ্ধভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন।

সূরা Al-Ma'un (1-7)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

أَرَءَيْتَ ٱلَّذِى يُكَذِّبُ بِٱلدِّينِ ﴿١﴾

1আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে বিচারদিবসকে মিথ্যা বলে?

فَذَٰلِكَ ٱلَّذِى يَدُعُّ ٱلْيَتِيمَ ﴿٢﴾

2সে সেই ব্যক্তি, যে এতীমকে গলা ধাক্কা দেয়

وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلْمِسْكِينِ ﴿٣﴾

3এবং মিসকীনকে অন্ন দিতে উৎসাহিত করে না।

فَوَيْلٌۭ لِّلْمُصَلِّينَ ﴿٤﴾

4অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাযীর,

ٱلَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ ﴿٥﴾

5যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বে-খবর;

ٱلَّذِينَ هُمْ يُرَآءُونَ ﴿٦﴾

6যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে

وَيَمْنَعُونَ ٱلْمَاعُونَ ﴿٧﴾

7এবং নিত্য ব্যবহার্য্য বস্তু অন্যকে দেয় না।

সূরা Al-Kawthar (1-3)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

إِنَّآ أَعْطَيْنَٰكَ ٱلْكَوْثَرَ ﴿١﴾

1নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি।

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَٱنْحَرْ ﴿٢﴾

2অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন।

إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ ٱلْأَبْتَرُ ﴿٣﴾

3যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ।

সূরা Al-Kafirun (1-6)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

قُلْ يَٰٓأَيُّهَا ٱلْكَٰفِرُونَ ﴿١﴾

1বলুন, হে কাফেরকূল,

لَآ أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ ﴿٢﴾

2আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর।

وَلَآ أَنتُمْ عَٰبِدُونَ مَآ أَعْبُدُ ﴿٣﴾

3এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি

وَلَآ أَنَا۠ عَابِدٌۭ مَّا عَبَدتُّمْ ﴿٤﴾

4এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর।

وَلَآ أَنتُمْ عَٰبِدُونَ مَآ أَعْبُدُ ﴿٥﴾

5তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি।

لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِىَ دِينِ ﴿٦﴾

6তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।

সূরা An-Nasr (1-3)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

إِذَا جَآءَ نَصْرُ ٱللَّهِ وَٱلْفَتْحُ ﴿١﴾

1যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়

وَرَأَيْتَ ٱلنَّاسَ يَدْخُلُونَ فِى دِينِ ٱللَّهِ أَفْوَاجًۭا ﴿٢﴾

2এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন,

فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَٱسْتَغْفِرْهُ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ تَوَّابًۢا ﴿٣﴾

3তখন আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী।

সূরা Al-Masad (1-5)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

تَبَّتْ يَدَآ أَبِى لَهَبٍۢ وَتَبَّ ﴿١﴾

1আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে,

مَآ أَغْنَىٰ عَنْهُ مَالُهُۥ وَمَا كَسَبَ ﴿٢﴾

2কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে।

سَيَصْلَىٰ نَارًۭا ذَاتَ لَهَبٍۢ ﴿٣﴾

3সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে

وَٱمْرَأَتُهُۥ حَمَّالَةَ ٱلْحَطَبِ ﴿٤﴾

4এবং তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে,

فِى جِيدِهَا حَبْلٌۭ مِّن مَّسَدٍۭ ﴿٥﴾

5তার গলদেশে খর্জুরের রশি নিয়ে।

সূরা Al-Ikhlas (1-4)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ﴿١﴾

1বলুন, তিনি আল্লাহ, এক,

ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ﴿٢﴾

2আল্লাহ অমুখাপেক্ষী,

لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣﴾

3তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি

وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ ﴿٤﴾

4এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।

সূরা Al-Falaq (1-5)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلْفَلَقِ ﴿١﴾

1বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার,

مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ﴿٢﴾

2তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে,

وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ﴿٣﴾

3অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়,

وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّٰثَٰتِ فِى ٱلْعُقَدِ ﴿٤﴾

4গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে

وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ﴿٥﴾

5এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।

সূরা An-Nas (1-6)

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ ﴿١﴾

1বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার,

مَلِكِ ٱلنَّاسِ ﴿٢﴾

2মানুষের অধিপতির,

إِلَٰهِ ٱلنَّاسِ ﴿٣﴾

3মানুষের মা’বুদের

مِن شَرِّ ٱلْوَسْوَاسِ ٱلْخَنَّاسِ ﴿٤﴾

4তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে,

ٱلَّذِى يُوَسْوِسُ فِى صُدُورِ ٱلنَّاسِ ﴿٥﴾

5যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে

مِنَ ٱلْجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ ﴿٦﴾

6জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।

কুরআনের পাঠ: তানজিল প্রকল্প (tanzil.net), উসমানি লিপি, হুবহু অনুলিপি, CC BY 3.0। অনুবাদ: মুহিউদ্দীন খান।